***জাওয়াব ***
ইসলামে সংক্রমণ বা ছোঁয়াচে রোগ আছে বিশ্বাস করা কতটুকু ছহীহ আক্বিদা সম্মত ?
এর জবাবে বলতে হয় যে---
সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাস করা মানে এটা বিশ্বাস করা রোগের নিজস্ব ক্ষমতা আছে, নিজ ক্ষমতায় রোগ কারো উপর সংক্রমন করতে পারে।
যা স্পষ্ট শিরক।
পবিত্র দ্বীন ইসলামে ছোঁয়াচে রোগের প্রতি এ রূপ বিশ্বাস রাখা হারাম ও শিরকের অন্তর্ভূক্ত। সূতরাং যারা করোনা গজবকে ছোঁয়াচে বলছে তারা কুফরী করছে।
বর্তমান সময়ে করোনা নামক গজবকে কেন্দ্র করে মুসলমান নামধারী কিছু মানুষ ছোঁয়াচে রোগের কথা সমাজে খুব প্রচার করছে। এরা ছোঁয়াচে রোগের কথা বলে পবিত্র মসজিদে নামায বন্ধের মত কাজও করে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ।
এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইসলামী ফাউন্ডেশনের মালানাগং ।
তাদের এই ঈমান ধ্বংসী ফতোয়াতে বিভ্রান্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঈমান নষ্ট করছে। নাউযুবিল্লাহ।
তাই মুসলমানদের এ বিষয়ে কি আক্বীদা থাকা দরকার সে বিষয়ে পবিত্র শরীয়ত কি বলে সে বিষয়ে আলোকপাত করা হলোঃ
ছোঁয়াচে রোগ বিষয়ে মুসলমানদের মৌলিক যে আক্বীদা রাখতে হবেঃ
[وَقَالَ عَفَّانُ حَدَّثَنَا سَلِيمُ بْنُ حَيَّانَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مِينَاءَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لاَ عَدْوى وَلاَ طِيَرَةَ وَلاَ هَامَةَ وَلاَ صَفَرَ]
হযরত আবু হুরায়রাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই, কুলক্ষণ বলে কিছু নেই, পেঁচা অশুভের লক্ষণ নয়, ছফর মাসে কোন অশুভ নেই।
শব্দগত সামান্য ব্যবধানে অসংখ্যবার পবিত্র হাদীছ শরীফ গুলো বিভিন্ন হাদীস শরীফ উনার কিতাব সমূহে আসছে ।
কিতাব সূত্রঃ (বুখারী শরীফ ৫৭০৭, বুখারী শরীফ ৫৭১৭, মুসলিম শরীফ ৫৯২০, ইবনে মাজাহ ৮৬, মুসনাদে আহমদ ১৫৫৪, সহীহ ইবনে হিব্বান ৫৮২৬, মুসনাদে বাযযার ৭১৪৭, মুসনাদে তয়লাসী ২০৭৩, সুনানে কুবরা নাসাঈ ৯২৩২, মুসনাদে আবু ইয়ালা ৭৯৮, সুনানে কুবরা বায়হাকী ১৪৬১৯)
এক ই বিষয়ে এতবার এতো গুলো সম্মানিত হাদীছ শরীফের কিতাবে উক্ত হাদীস শরীফ গুলো উল্লেখ করার কারণ ই হলো মুসলমানদের আক্বিদা শিক্ষা দেওয়া ।
অর্থাৎ জাহিলী যুগের কূ সংস্কার পূর্ণ ভ্রান্ত কুফরী-শেরকী আক্বিদার মূলৎপাটণে বারবার কুঠারাঘাত করা হয়েছে ।
এমনকি সহীহ মুসলিম শরীফে নিম্নোল্লেখিত
باب لا عدوى ولا طيرة ولا هامة ولا صفر ---------------- ।
একটি বাব- ই উল্লেখ করা হয়েছে ।
অন্য একখানা হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে
হযরত সা’দ ইবনু মালিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ [أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " لاَ هَامَةَ وَلاَ عَدْوَى وَلاَ طِيَرَةَ] হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, পেঁচা অশুভ নয়, ছোঁয়াচে রোগ নেই এবং কোন জিনিস অশুভ হওয়া ভিত্তিহীন।
কিতাব সূত্রঃ (আবু দাউদ শরীফ ৩৯২১, ৩৯১৬, ৩৯১২)।
উপরোক্ত ছহীহ হাদীছ শরীফ থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, দ্বীন ইসলামে ছোঁয়াচে রোগের কোন অস্তিত্ব নেই।
কারন স্বয়ং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছোঁয়াচে রোগ বলে কোন রোগ না থাকার বিষয়কে স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাস করা মানে এটা বিশ্বাস করা রোগের নিজস্ব ক্ষমতা আছে, নিজ ক্ষমতায় রোগ কারো উপর সংক্রমন করতে পারে।
যা স্পষ্ট শিরক।
রোগ দেয়ার মালিক মহান আল্লাহ পাক। এরপরও কেউ যদি ছোঁয়াচে রোগের কথা বিশ্বাস করে তাহলে সে এ বিষয়ে মৌলিক আক্বীদা থেকে বিচ্যুৎ হয়ে পথভ্রষ্ট হিসাবে চিহ্নিত হবে।
কারন পবিত্র দ্বীন ইসলাম কোন একটি বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা করা হলে কেউ সেটা অস্বীকার করলে কুফরী হবে।
*২/**ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাস করা জাহেলী যুগের বৈশিষ্টঃ
এ বিষয়ে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে [عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَرْبَعٌ فِي أُمَّتِي مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ لَنْ يَدَعَهُنَّ النَّاسُ النِّيَاحَةُ وَالطَّعْنُ فِي الأَحْسَابِ وَالْعَدْوَى أَجْرَبَ بَعِيرٌ فَأَجْرَبَ مِائَةَ بَعِيرٍ مَنْ أَجْرَبَ الْبَعِيرَ الأَوَّلَ وَالأَنْوَاءُ مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ] হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, আমার উম্মতের মাঝে জাহিলী যুগের চারটি বিষয় আছে। তারা কখনও এগুলো (পুরোপুরি) ছাড়তে পারে নাঃ মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ সহকারে ক্রন্দন করা, বংশ তুলে গালি দেওয়া, ছোঁয়াচে রোগ সংক্রমিত হওয়ার ধারণা করা, যেমন একটি উট সংক্রমিত হলে একশ’টি উটে তা সংক্রমিত হওয়া।
এই সম্মানিত হাদীছ শরীফে নুরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা তিনি অনেকটা আক্ষেপ করেই যেন বললেন--
আমার উম্মতের মাঝে জাহিলী যুগের চারটি বিষয় আছে। তারা কখনও এগুলো (পুরোপুরি) ছাড়তে পারে না ।
চারটির উল্লেখযোগ্য একটি শিরকী আক্বিদা হলো সংক্রামক বা ছোঁয়াচে বিশ্বাস করা ,নাউজুবিল্লাহ।
যা আমারা বর্তমানে ও লক্ষ করছি ।
কিতাব সূত্রঃ (তিরমিযী শরীফ ১০০১)
বিষয়টি কে আরো স্পষ্ট করার জন্য একজন--বেদুঈন বললো,--
. فَقَالَ أَعْرَابِيٌّ مَا بَالُ الإِبِلِ تَكُونُ فِي الرَّمْلِ كَأَنَّهَا الظِّبَاءُ فَيُخَالِطُهَا الْبَعِيرُ الأَجْرَبُ فَيُجْرِبُهَا
قَالَ " فَمَنْ أَعْدَى الأَوَّلَ " .
ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আমার উটের পাল অনেক সময় মরুভূমির চারন ভূমিতে থাকে,
মনে হয় যেন নাদুস-নুদুস জংলী হরিণ। অতঃপর সেখানে কোন একটি চর্মরোগ আক্রান্ত উট এসে আমার সুস্থ উটগুলোর সাথে থেকে এদেরকেও চর্মরোগী বানিয়ে দেয়।
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার ভাষা অনুযায়ী মনে হয় নুরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত ভ্রান্ত ধারণা উৎখাতের জন্য ই উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন --- قَالَ " فَمَنْ أَعْدَى الأَوَّلَ "
প্রথম উটটির রোগ সৃষ্টি করলো কে ?
(আবু দাউদ হাদীছ শরীফ নং ৩৯১১)
এখন উত্তর কি হবে ?
সঠিক উত্তর হবে সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ পাক সৃষ্টি করছেন ।
এরপর আর বলা চলেনা রোগ সংক্রমক বা ছোঁয়াচে ।
অতএবং আক্বিদা বিশুদ্ধ হওয়া প্রয়োজন যে
জাহিলী যুগের বৈশিষ্ট সমূহের একটি বৈশিষ্ট হচ্ছে ছোঁয়াচে রোগের প্রতি বিশ্বাস রাখা।
সূতরাং পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে প্রমাণ হলো, ছোঁয়াচে রোগের প্রতি বিশ্বাস রাখা মু’মিনদের আক্বীদা না বরং জাহেলী যুগের আক্বীদা। তাই যারা আজ ছোঁয়াচে রোগের কথা বিশ্বাস করে এবং এ আক্বীদা প্রচার করে তারা হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ভবিষ্যৎবানী অনুযায়ী জাহেলী যুগের বৈশিষ্ট বহন করছে।
জাহিলী যুগের ছোঁয়াচে রোগের বদ আক্বীদা রোধ করার জন্য ‘ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই’ এই হাদীছ শরীফে স্পষ্ট অবতারনাঃ
যা হাদীছ শরীফে বলা হয়েছে, لاَ عَدْوى বা ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই।
অর্থাৎ কোন রোগের নিজস্ব এ ক্ষমতা নেই যে, কাউকে সংক্রমণ করবে। মহান আল্লাহ পাকের তরফ থেকে রোগ আসে এর শিফাও মহান আল্লাহ পাক দিয়ে থাকেন। রোগের নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই যে,
সে কোন প্রানীকে সংক্রমিত করবে।
এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত ইমাম বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি --
উনার সুনানে কুবরা বায়হাকীতে ছোঁয়াচে রোগের আলোচনা করতে গিয়ে একটা অধ্যায়ের শিরোনামে বিষয়টা স্পষ্ট করেছেনঃ [باب: لاَ عَدْوَى عَلَى الْوَجْهِ الَّذِى كَانُوا فِى الْجَاهِلِيَّةِ يَعْتَقِدُونَهُ مِنْ إِضَافَةِ الْفِعْلِ إِلَى غَيْرِ اللَّهِ تَعَالَى]
“অধ্যায়: ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই এই নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে জাহিলী যুগের মানুষের আক্বীদার কারনে। তারা এটা গাইরুল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করতো। ”নাউজুবিল্লাহ ।
কিতাব সূত্রঃ (সুনানে কুবরা বায়হাকী ৭ম খন্ড ৩৫১ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা দারু কুতুব আল ইলমিয়া, বৈরূত লেবানন)
[অর্থাৎ তাদের ধারনা ছিলো রোগ ব্যাধির নিজস্ব ক্ষমতা রয়েছে যেকারনে কোন সুস্থ মানুষ কোন রোগীর সংস্পর্শে গেলে সেও সংক্রমিত হবে। তাদের এ শিরকি আক্বীদা রদ করতে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিষয়টা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই]
সম্মানিত আরো একটি হাদিস শরীফ উনার দিকে আমারা লক্ষ করি তা হলো
-حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّهُ قَالَ صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الصُّبْحِ بِالْحُدَيْبِيَةِ فِي إِثْرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ " هَلْ تَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ " . قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ " قَالَ أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ فَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِي كَافِرٌ بِالْكَوْكَبِ وَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا فَذَلِكَ كَافِرٌ بِي مُؤْمِنٌ بِالْكَوْكَبِ " .
যায়িদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার সময় এক রাতে সামান্য বৃষ্টি হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে ফাজরের সলাত আদায় করলেন। সলাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে ফিরে বললেনঃ
আপনারাকি জানেন, আপনাদের রব কী বলেছেন? তারা বললেন, মহান আল্লাহ পাক ও উনার রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনিই ভাল জানেন। অতঃপর
তিনি বলেনঃ আল্লাহ বলেছেন, সকালবেলা আমার বান্দাদের কেউ আমার প্রতি বিশ্বাসী তথা মুমিনএবং কেউ অবিশ্বাসী তথা কাফির হয়েছে।
যে বলেছে, মহান আল্লাহ পাক উনার দয়া ও রহমাতে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে, সে আমার প্রতি বিশ্বাসী ঈমানদার এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে বলেছে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টি হয়েছে, সে আমার প্রতি অবিশ্বাসী তথা কাফির এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী।
এই পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে আমারা আক্বিদার বিষয়ে স্পষ্ট জানতে পারলাম নক্ষত্র মহান আল্লাহপাক উনার একটি সৃষ্টি ।
উহার প্রভাবে বৃষ্টি হয় বলা আক্বিদার খিলাফ তথা কুফরী ।
ঠিক একই ভাবে রোগ মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছায় হয়ে থাকে উহার বিপরীত আক্বিদা পোষন করা ও কুফরী ।
