দুনিয়ালোভী সালাবা ইবনে হাতিবের অভিশপ্ত জীবন: মুনাফিকদের সতর্কবার্তা !

দুনিয়ালোভী সালাবা ইবনে হাতিবের অভিশপ্ত জীবন: মুনাফিকদের সতর্কবার্তা !

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত মুবারক করেছেন খালি হাত মুবারকে । সঙ্গী সাথি যারা ছিলেন তারাও দুনিয়াবি দৃষ্টিতে সবাই আর্থিক সবকিছু ত্যাগ করে 

নিঃস্ব অবস্থায় সেখানে উপস্থিত হয়েছেন ।নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার  হিজরতের সঙ্গীদের অর্থ-সম্পদ-জমিজমা, বাড়িঘর,দিয়ে খিদমত করেছেন মদিনার সৌভাগ্যবান হযরত আনসার সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা।

যারা হিজরত করেছিলেন উনাদেরকে  বলা হয়-হযরত  মুহাজির বা হিজরতকারী।

আর উনাদেরকে যারা সহযোগিতা করেছিলেন তাদের  বলা হয়- হযরত আনসার বা সাহায্যকারী। মুহাজির ও আনসার হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের মর্যাদা সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফে আলাদা ভাবে অনেক পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে, সুবহানাল্লাহ !

সালাবা ছিলেন সূচনায় আনসারদের একজন। পুরো নাম সালাবা ইবনে হাতিব আল আনসারি।

ইমানের পথে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল সৌভাগ্যবান হিসেবেই। 

তবে নিজের অত্যাধিক লোভের কারণে নূরে মুজাস্সাম 

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অভিশাপ কুড়িয়ে চির হতভাগা লা'নত গ্রস্থদের খাতায় নাম লেখান বেচারা সালাবা। তাফসীরে ইবনে জারির ,ইবনে আবী হাতেম, ইবনে মারদুবিয়া, তাবরানী 

ইবনে কাসির, মা'রেফুল কুরআন ও বায়হাকী প্রমুখ হযরত আবূ উমামাহ বাহেলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে ঘটনাটি এভাবে উদ্ধৃত করেছেন যে, ধূ ধূ রোদেলা দুপুর । খেজুর গাছের ছায়ায় ঘেরা পবিত্র মসজিদে নববী শরীফে  হযরত সাহাবায়ে কেরামদের  নিয়ে বসে আছেন রাউফুর রহিম,রাহমাতুল্লিল আলামিন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি।

হঠাৎ কে যেন বলে উঠল- ‘ওগো আল্লাহর নবী! আমার জন্য একটু দোয়া মুবারক করুন মহান আল্লাহ পাক যেন আমাকে সম্পদে ভরপুর করে দেন। উম্মতের দরদী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ভালো করে তাকিয়ে দেখেলেন সালাবাকে । লোভে চকচক করছে তার জিহ্বা ! কথার মধ্যেই দুনিয়া হাছিলের লালসা ঢেউ খেলছে তার অবুঝ হৃদয়ে! রহমতের নবী দুজাহানের কান্ডারী তিনি যে, তার ইহ পরকাল সম্মোক অবগত।

তিনি জানতেন লোভের পরিণতি সা'লাবাকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মিষ্টি করে বললেন, ‘অঢেল সম্পদ পেয়ে না-শুকুর বান্দা হওয়ার চেয়ে অল্প পেয়ে শুকর গোজার বান্দা হওয়া অনেক ভালো।’ কিন্তু আফসোস হতভাগা সালাবা বুঝতে পারেনি নবুওয়াতি সতর্ক বার্তা। সে আবার বলল, ওগো দয়াময় রাসূল আমার জন্য একটু দোয়া করুন না! আমি যেন অঢেল সম্পদের মালিক হই। ’ রহমতের নবী আরও স্পষ্ট করে বোঝালেন-‘তুমি কি পার না নবী রসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ন্যায় অল্পে তুষ্ট হতে হে সায়লাবা ! ওহে ! সায়লাবা শুনো,আমি বললে মদিনার পাহাড়গুলো সোনায় পরিণত হয়ে আমার পেছনে চলবে। কিন্তু সম্পদ-বিলাসিতার পরিবর্তে দরিদ্র হালথ বেছে নিয়েছি আমি। ’

এবার বোধ হয় কিছুটা বুঝতে পেরেছে সালাবা! কী সতর্ক বার্তা তাঁকে করা হচ্ছে! সম্পদ-বিলাসিতা মানুষকে ধর্ম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আত্মীয়তার অধিকার রক্ষা থেকে বারণ করে। শুকর গোজার বান্দা হতে বাধা দেয়। কোনো কথা না বলেই এবার উঠে চলে গেল সালাবা!  অল্প কিছুক্ষণ পরে আবার ফিরে এসে একই আরজি পেশ করে সায়লাবা- ‘হে আল্লাহর নবী! আমি ওয়াদা করছি সম্পদ আমাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম থেকে দূরে রাখতে পারবে না। আমি মহান আল্লাহ পাক ও বান্দার হক্ব পুরোপুরিভাবে আদায় করব। আমার জন্য দোয়া মুবারক করুন আমি যেন প্রচুর সম্পদের মালিক হই।

সূরা আত তাওবাহ্ শরীফ এর ৭৫ নং আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ তায়ালা সেই দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ عٰہَدَ اللّٰہَ لَئِنۡ اٰتٰىنَا مِنۡ فَضۡلِہٖ لَنَصَّدَّقَنَّ وَلَنَکُوۡنَنَّ مِنَ الصّٰلِحِیۡنَ

অর্থঃ তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সঙ্গে অঙ্গীকার করেছিল যে, তিনি যদি নিজ অনুগ্রহে আমাদেরকে দান করেন, তবে আমরা অবশ্যই সদকা/ যাকাত আদায় করব এবং নিঃসন্দেহে আমরা সৎলোকদের অন্তর্ভুক্ত হব।

নাছোড় বান্দা সালাবা !  অঙ্গীকার ভালো নিয়তের। অগত্যা দোয়া মুবারকে হাত মুবারক উঠালেন নূর নবীজি- ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম‘হে রব্বে কারিম দয়াময় প্রভূ! সালাবাকে আপনি অঢেল সম্পদ দান করুন। ’ দোয়া মুবারক কবুল হলো । হাতেগোনা কয়েকটি ছাগলের মালিক সালাবা অল্প দিনের ব্যবধানে প্রচুর ছাগলের মালিক বনে গেল। তার ছাগলগুলো এত দ্রুত এবং এত বেশি বাচ্চা দিতে লাগল যে, নগরীর ছোট্ট খামারে জায়গা সংকুলান হলো না। সে চলে গেল পবিত্র মদিনা শরীফ থেকে বেশ দূরে এক খোলা ময়দানে। দূরত্বের কারণে পবিত্র জোহর ও আসর নামাজ ছাড়া আর কোনো নামাজ নূর নবীজি উনার সঙ্গে জামাতে আদায় করা সম্ভব হয় না তার। এর কিছুদিন পর ব্যস্ততার অজুহাতে কেবল জুমার নামাজ মসজিদে নববী শরীফে এসে পড়ত সালাবা। আরও কিছুদিন পরের কথা। ততদিনে সে হয়ে উঠেছে মদিনার নামকরা ধনী! খামারের পরিধি বাড়িয়ে আরও দূরে চলে গেল সায়লাবা!  দূরে চলে গেল মসজিদে নববী শরীফ থেকে এবং আল্লাহ পাক উনার নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকেও ! এখন ভূলে গেছে দ্বীনের কথা ! হায়! এখন আর রহমতের নবীর পেছনে জুমা পড়ারও সময় হয় না। একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘অনেক দিন হলো সালাবাকে দেখি না!  তার কী হয়েছে?’ হযরত সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা বললেন, ‘সে এখন ভীষণ ব্যস্ত,বড় ব্যবসায়ী। তার প্রচুর ছাগল, অনেক বড় খামার। অনেক দূরে তার বাসা। মসজিদে আসার সময়-সুযোগ কোনোটাই হয় না তার। এসব শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে নবীজি বললেন-

يا ويح ثعلبة يا ويح ثعلبة يا ويح ثعلبة

 ‘আফসোস! সালাবা শেষ হয়ে গেল! সালাবা শেষ হয়ে গেল! সালাবা শেষ হয়ে গেল!’

ঠিক এমন সময় পবিত্র জাকাত উনার আয়াত শরীফ নাযিল হলো।

মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন 

خُذۡ مِنۡ اَمۡوَالِہِمۡ صَدَقَۃً تُطَہِّرُہُمۡ وَتُزَکِّیۡہِمۡ بِہَا وَصَلِّ عَلَیۡہِمۡ ؕ اِنَّ صَلٰوتَکَ سَکَنٌ لَّہُمۡ ؕ وَاللّٰہُ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ 

(সূরা তাওবা ১০৩)

(হে হাবীব মাহবুব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এদের সম্পদ হতে ‘সাদাকা’ গ্রহণ করুন । এটা দিয়ে আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং পরিশোধিত করবেন। আপনি তাদের জন্য দোয়া মুবারক করবেন । আপনার দোয়া মুবারক তো তাদের জন্যে শান্তির কারণ। মহান আল্লাহ্ পাক সর্বশ্রোতা, ও সর্বজ্ঞ।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাবার কাছে নোটিস দিয়ে দুজন যাকাত আদায় কারী সাহাবীদ্বয়কে পাঠালেন ! উনারা তার সাথে সাক্ষাত করে যাকাত প্রদানের নির্দেশ মুবারক শুনান।

সব শুনে সালাবা বলল, ‘এটা তো জাকাত না, কর আদায়ের নোটিস ! তাহলে কি এখন কাফেরদের ন্যায় কর/ টেক্স নেওয়া শুরু করছেন!? নাউজুবিল্লাহ নাউজুবিল্লাহ নাউজুবিল্লাহ!

আপনারা পরে আসুন আমি ভেবে দেখি। ’ শেষ পর্যন্ত সে আর জাকাত দিলই না। মহান আল্লাহর সঙ্গে করা ওয়াদা সে ভুলে গেছে। নূর নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিষয়টি জানতে পেরে বললেন, ‘আহা! সালাবা ধ্বংস হয়ে গেছে! সালাবা ধ্বংস হয়ে গেছে! সালাবা ধ্বংস হয়ে গেছে!’ ওই মজলিসে সালাবার এক নিকটাত্মীয়ও ছিল। সে সালাবাকে বিষয়টি জানাল। এবার হুঁশ ফিরল তার। দৌড়ে এসে নূর নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কদম মুবারকে লুটিয়ে পড়ল। বলল, ‘ওগো আল্লাহর নবী! আপনি আমার সম্পদ থেকে যে পরিমাণ ইচ্ছা জাকাত নিয়ে নিন। ’

মহান আল্লাহ পাক পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করেন -فَاَعۡقَبَہُمۡ نِفَاقًا فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ اِلٰی یَوۡمِ یَلۡقَوۡنَہٗ بِمَاۤ اَخۡلَفُوا اللّٰہَ مَا وَعَدُوۡہُ وَبِمَا کَانُوۡا یَکۡذِبُوۡنَ 

অর্থাৎ -পরিণামে তিনি এদের অন্তরে কপটতা স্থির করলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ-

দিবস পর্যন্ত, কারণ তারা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট যে অঙ্গীকার করেছিল তা ভঙ্গ করেছিল; কারণ তারা ছিল মিথ্যাচারী।—আত তাওবাহ্ - ৭৭

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘ওহে সালাবা! এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তোমার জাকাত নিতে মহান আল্লাহ পাক আমাকে বারণ করেছেন। এমনটি শুনে সালাবা মাটিতে গড়াগড়ি খেয়ে আফসোস করতে লাগল। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তি বললেন, ‘তোমার এই হা-হুতাশও এক ধরনের প্রতারণা।নাউজুবিল্লাহ 

আমি তোমাকে আগেই সতর্ক করেছিলাম। এখন আর তোমার কোনো সদকা নেওয়া যাবে না। ’ কিছুদিন পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন । পরবর্তীতে হতভাগা সালাবা খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক আলাইহিস সালাম উনার দরবারে সম্পদের জাকাত নিয়ে হাজির হলে সিদ্দিকে আকবর তিনিও তার যাকাত রাখেননি। পরে হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম উনার দরবার তার জাকাত আদায়ের জন্য হাজির হন কিন্তু তিনিও তার যাকাত গ্রহণ করেননি, নাউজুবিল্লাহ! সর্বশেষ ইতিহাসের নিকৃষ্টতম লা'নত গ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মৃত্যু বরন

মহান আল্লাহ পাক, উনার হাবীব মাহবুব নূরে মুজাস্সাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম ও উনাদের অসুন্তুষ্ঠি থেকে মহান আল্লাহ পাক আমাদের হেফাজত করুন,আমীন!

হানাফী --

১৯/৩/১৪৪৭ হিজরী 





 

মহান আল্লাহ পাক উনার রস্হায় খরচের ফযিলত ও প্রয়োজনীয়তা :-

মহান আল্লাহ পাক উনার রস্হায় খরচের ফযিলত ও প্রয়োজনীয়তা :-

     


    مَثَلُ الَّذِیۡنَ یُنۡفِقُوۡنَ اَمۡوَالَہُمۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ کَمَثَلِ حَبَّۃٍ اَنۡۢبَتَتۡ سَبۡعَ سَنَابِلَ فِیۡ کُلِّ سُنۡۢبُلَۃٍ مِّائَۃُ حَبَّۃٍ ؕ وَاللّٰہُ یُضٰعِفُ لِمَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَاللّٰہُ وَاسِعٌ عَلِیۡمٌ 

যারা নিজেদের ধন- সম্পদ মহান আল্লাহ্ পাক উনার পথে ব্যয় করে তাদের উপমা একটি শস্যবীজ, যা সাতটি শীষ উৎপাদন করে, প্রত্যেক শীষে একশত শস্যদানা। মহান আল্লাহ্য পাক যাকে ইচ্ছা বহু গুণে বৃদ্ধি করে দেন। আল্লাহ্ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।

ব্যাখ্যাঃ

যারা আল্লাহ্‌র পথে খরচ করে তাদের উপমা এমন যেমন কেউ গমের একটি দানা উর্বর ভূমিতে বপন করল। ঐ দান হতে একটি চারাগাছ গজাল। যাতে গমের সাতটি শীষ এবং প্রত্যেকটি শীষে একশ করে দানা থাকে। অর্থাৎ একটি দানা হতে সাতশ দানা জন্মিল। তবে স্মরণ রাখা কর্তব্য যে, উক্ত ব্যয় হতে কাঙ্খিত ফল লাভ করতে হলে নিম্নের শর্ত সমূহ পূর্ন করতে হবে। (১) সম্পদ হালাল হতে হবে। (২) যে দান করবে তাঁর উদ্দেশ্য সৎ হতে হবে। (৩) খরচের খাত যোগ্য হতে হবে। (৪) দান করার পর অনুগ্রহ করেছে এমন ধারণা পোষণ করতে পারবে না। এবং (৫) গ্রহীতাকে ঘৃণা করা যাবে না। উল্লেখিত শর্তাবলী পুরণে  ব্যর্থ হলে দানের সুফল আশা করা যায় না (মা কু)—আল বাকারা - ২৬১

 قُلۡ لِّعِبَادِیَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا یُقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَیُنۡفِقُوۡا مِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ سِرًّا وَّعَلَانِیَۃً مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَ یَوۡمٌ لَّا بَیۡعٌ فِیۡہِ وَلَا خِلٰلٌ 

হে আমার হাবীব মাহবুব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আমার বান্দাদের মধ্যে যারা মু’মিন তাদেরকে বলে দিন,সালাত কায়েম করতে এবং আমি তাদেরকে জীবিকা হিসেবে যা দিয়েছি তা হতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করতে-সেই দিনের পূর্বে যেদিন ক্রয়-বিক্রয় ও বন্ধুত্ব থাকবে না।’

(পবিত্র সূরা ইব্রাহীম শরীফ ৩১

   وَاٰتٰىکُمۡ مِّنۡ کُلِّ مَا سَاَلۡتُمُوۡہُ ؕ  وَاِنۡ تَعُدُّوۡا نِعۡمَتَ اللّٰہِ لَا تُحۡصُوۡہَا ؕ  اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لَظَلُوۡمٌ کَفَّارٌ  

এবং তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন তোমরা তাঁর নিকট যা কিছু চেয়েছ তা হতে। তোমরা মহান আল্লাহ্ পাক উনার অনুগ্রহ গণনা করলে এর সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না!মানুষ অবশ্যই অতিমাত্রায় জালিম, অকৃতজ্ঞ, নাউজুবিল্লাহ 

(পবিত্র সূরা ইব্রাহীম শরীফ- ৩৪)

মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা,বামৈ, লাখাই, হবিগঞ্জ । স্থাপিত:-১৪৩১ হিজরী

মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা,বামৈ, লাখাই, হবিগঞ্জ । স্থাপিত:-১৪৩১ হিজরী

আসসালামুয়ালাইকুম!

মুহতারাম ! আমাদের মাদ্রাসাটি এই আখেরি জামানায় সত্যিকার দ্বীন ইসলাম ও পরিপূর্ণ সুন্নাহ অনুযায়ী ইলিম আমল আখলাক শিক্ষা দেওয়ার একটি অদ্বিতীয় দ্বিনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সুবহানাল্লাহ। 

আগামী ৬ নভেম্বর ২০২৫ ইং রোজ বৃহস্পতিবার মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিল।প্রতি মাসে মাদ্রাসার অনেক খরচ । তাই মাহফিল উপলক্ষে কিছু ফান্ড সংগ্রহ করা হয় যাতে সারা বছরের ঘাটতি পূরণ করা যায়।

আপনার প্রতি উদাত্ত আহ্বান! আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী উক্ত মাদ্রাসার ফান্ডে কিছু অর্থ দিয়ে দ্বীনি কাজের অগ্রগতিতে সহযোগিতা করবেন বলে আশাবাদী ।

 জনাব,এড়িয়ে যাবেন না !

 মনে রাখবেন বর্তমান সময়ে প্রায় অধিকাংশ মানুষই শুধু বছরে MB ক্রয় করে খরচ করেন,সর্বনিম্ন ৫থেকে 

৭ হাজার টাকা ! 

তাও রাত দিন অধিকাংশ সময়ই গুনাহর কাজেই এই অর্থ খরচ হয়,নাউজুবিল্লাহ ।

তাই কমপক্ষে 500-1000 টাকা বিকাশ করে 

উক্ত নেক কাজে শরীক হবেন বলে আশাবাদী 

মহান আল্লাহ পাক কবুল করুন,আমিন।


মুফতি মুহম্মদ তোফাজ্জল হোসাইন হানাফী 

মুহতামিম, মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বামৈ, লাখাই,হবিগঞ্জ। বিকাশ- ০১৭২৬-৭০২২৩৩