অনুপম চরিত্র মুবারক-ই জামানার লক্ষস্হল ওলীআল্লাহ ও মুজাদ্দিদে আ'যম হওয়ার বড় প্রমাণ, সুবহানাল্লাহ-১


আমরা জানি পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয় নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার ৪০ বছর বয়স মুবারক থেকে ।
তিনি ইসলামের দাওয়াত মুবারক শুরু করেন ৪০ বছর বয়স মুবারক থেকে। অর্থাৎ নবুওয়াত মুবারকের আনুষ্ঠানিকতার পর। প্রশ্ন হলো আখিরী রাসুল নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার প্রথম ৪০ বছর বয়স মুবারক কোন কাজে লেগেছে ? কেন মহান পবিত্রতম জীবন মুবারক উনার ১ম ৪০ খানা বছর ইসলামের দাওয়াত দেননি! তাওহীদের দাওয়াত, সত্য-মিথ্যার দাওয়াত দেন নি ?! মহান রব কেন ৪০ বছর পর্যন্ত দাওয়াত ও তাবলীগ করতে ওহী মুবারক নাজিল করেন নি ?

ভালো করে চিন্তা করুন তো ! ইহার হাক্বীকত কি ?
মূলত লক্ষ-কোটি কারণ আছে । একটি কারণ আলোচনা করলে আমাদের আলোচ্যসূচি বুঝতে সহজ হবে ইনশাআল্লাহ। আইয়্যামে জাহিলিয়্যাতের ঘোর অন্ধকার অমানিশার দীর্ঘ কাল পার হয়ে যখন আলোর প্রয়োজন অনিবার্য হয়েছে, মহান রব তায়ালার ইচ্ছায় উনার হাবীব মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জমিনে পাঠিয়েছন । উনার আগমনের পূর্বাপর থেকেই প্রকাশিত হয়েছে অসংখ্য মুজিযা শরীফ । অর্থাৎ তিনি তো নবী- এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রসূল হয়ে ই জমিনে তাশরিক মুবারক গ্রহণ করেছেন সুবহানাল্লাহ। তার পরও তিনি
দাওয়াত, তাবলীগ, তাওহীদ,রিসালত,হারাম-হালাল,
কুফর শিরক কোন বিষয়ে আদেশ-নিষেধ মুবারক করেননি। তার মানে হলো তখনকার মানুষ সত্য গ্রহণ, মিথ্যা, কুফর,শিরক বাদ দিয়ে তাওহীদ,কুরআন, আল্লাহ, রসুল বিশ্বাস করার কোন যুক্তি-প্রমান তাদের কাছে ছিল না ! মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছায় নূরে মুজাসসাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দীর্ঘ ৪০ টি বছর বয়স মুবারকের শুরু কাল তথা শিশু বয়স মুবারক থেকে তাদের সাথে উঠা বসা, লালিত-পালিত হয়ে, ব্যবসা-বাণিজ্য সহ দীর্ঘ ৪০ বছর অতিবাহিত করেলেন। বিগত ৪০ বছর বয়স মুবারকের অনুপম, অপূর্ব আদর্শ মুবারক তাদের অন্তরে বিশেষ ভাবে রেখাপাত করে । আইয়্যামে জাহিলিয়্যাতের পথ হারা মানুষের মনেও আল আমিন বিশ্বাসে জায়গা করে নিলেন
নূরে মুজাসসাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, সুবহানাল্লাহ। এমন ভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করলো যে তাদের মাঝে অনুষ্ঠিত গোত্রীয় কোন্দল এর মিমাংসার ভার এখন আল আমিন খ্যাত অনুপম চরিত্র মুবারক উনার অধিকারী রাহমাতুল্লিল আলামিন উনার হাত মুবারকে, সুবহানাল্লাহ।
তাদের অন্তরে এতো বিশ্বাস! যার ৪০ বছর নিখুঁত পবিত্র বয়স মুবারক হলো বিরাট বড় প্রমাণ! এমন প্রমাণ যখন তিনি বলেন ইহা মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম! তাদের বিশ্বাস হয়, সুবহানাল্লাহ ।তিনি বল্লেন, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, সেটাও বিশ্বাস হয়! গাছ,মাছ,পাথর সূর্যের পূজা নিষিদ্ধ তাও বিশ্বাস হয় । মদ জোয়া, কুফর শিরক বাদ দিতে হবে,তাও বিশ্বাস হয়, সুবহানাল্লাহ! কেন এতো বিশ্বাস? একটাই কথা তিনি যা বলেন সব সত্য বলেন। কারণ খুব কাছে থেকে ৪০ বছর বয়স মুবারক উনাকে দেখলাম তিনি জীবনে কখনো মিথ্যা বলতে পারেন না, বলেননি ,এমনকি উনার চাল-চলন,উঠা-বসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, পরোপকার সর্বক্ষেত্রে উনার তুলনা নেই, হবেও না, সুবহানাল্লাহ। এখন তিনি যা বলেন একেবারে সত্য। এই মহান ৪০ বছর বয়স মুবারক যারা দেখেছেন
বুঝেছেন, উপলব্ধি করেছে, অন্তরের গভীর থেকে বিশ্বাস করেছেন তারাই কিয়ামত অবধি অনুসরণীয় মহান হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদিয়াল্লাহু আনহুম,সুবহানাল্লাহ।

তার পরও কি আবু লাহাব,আবু জাহেল,উতবা, শায়বা,মুগিরা তাদের ঈমান নছীব হয়েছে? হয়নি। কারণ তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৪০ বছর বয়স মুবারক থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছে, নাউজুবিল্লাহ!

সর্ব প্রথম মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারক হলো আপনার আত্মীয় স্বজনের কাছে সম্মানিত দ্বীন ইসলামের দাওয়াত দিন। তিনি একদিন মক্কার ছাওর পাহাড়ে উঠে আহ্বান করলেন--ইয়া সবাহ্ ! সাথে সাথে
মক্কার কুরাইশসহ সকলি সেখানে উপস্থিত হলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের জিজ্ঞাস করলেন আপনারা কি আমাকে বিশ্বাস করেন ? সবাই হাত উড়িয়ে বল্লেন জি বিশ্বাস করি।‌ তিনি তাদের কথার দৃঢ়তা বাড়াতে পূণরায় বল্লেন আমি যদি বলি পাহাড়ের ঐ দিকে আপনাদের শত্রু বাহিনী আছে! আপনারা কি তাও বিশ্বাস করবেন ? তারা সবাই সমস্বরে চিৎকার করে বলে উঠল আমরা সবাই আপনার কথা বিশ্বাস করি ! কারণ আপনি ৪০ বছর বয়স মুবারকে পলকের তরেও মিথ্যা বলেননি, বলতে পারেন না। আপনার চরিত্র মুবারক অনুপম পবিত্র,কাজেই আপনি যা বলবেন সত্য বলবেন কখনো মিথ্যা বলবেন না । তখন নূরে মুজাসসাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন হে লোক সকল আপনারা বলুন, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। সাথে সাথে তাদের দীর্ঘ ৪০ বছরের চোখে দেখা সত্যবাদীতা, তাদের বিশ্বাস কুয়ে গেল! একটু আগে ও যারা জোর গলায় বিশ্বাস করে ছিল মুহুর্তে তাদের বিশ্বাস ধ্বসে গেল, নাউজুবিল্লাহ!
তারা বল্ল এই জন্যই কি এখানে আমাদের ডেকছেন ?
তারা একে একে নূরে মুজাসসাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে বিশ্বাসের পরিবর্তে অবিশ্বাসের তীর ছুড়ে দিল, নাউজুবিল্লাহ ! আবু লাহাব তো গালিগালাজ শুরু করল! নাউজুবিল্লাহ।

কেন কি হলো ? মূলত কাফেররা তাদের দুনিয়াবি স্বার্থে
তারা নূরে মুজাসসাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনতে পারেনি, পারিনি কুরআন শরীফ বিশ্বাস করতে! পারেনি মহান আল্লাহ পাক উনার এককত্ব স্বীকার করতে , নাউজুবিল্লাহ।

ঠিক একই ভাবে জামানার মহান ইমাম ও মুজতাহীদ আওলাদে রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যারা খুব কাছে থেকে দেখেছেন তাদের একজনের একটি ঘটনা শুনাই -- আজ থেকে প্রায় ১৫/১৬ বছর আগের কথা! আমার বন্ধু মুফতি মুহম্মদ বায়জিদ কবির (সে বর্তমানে একটি মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক)
সুমহান ঢাকা রাজারবাগ দরবর শরীফ থেকে কোন এক সফরে ঢাকায় অন্য কোথাও যাচ্ছিলেন, গাড়িতে এক ভদ্রলোকের সাথে কথা হয়, তিনি মুফতি বায়জিদ সাহেবকে বিভিন্ন কৌশল বিনিময় করে জিজ্ঞেস করলেন আপনি ঢাকা কোথায় আসলেন ? তিনি বললেন ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফ এসেছি । ঐ ভদ্রলোক বললেন দেখুন আপনি এমন একজন মহান ব্যক্তির কাছে আসছেন তিনি সত্যিই একজন মহান চরিত্র মুবারক এর অধিকারী এবং একজন ওলীআল্লাহ সুবহানাল্লাহ।
ঐ ভদ্রলোক আরো বল্লেন যে,দেখুন আপনার পীর সাহেব তিনি আমার ক্লাসমেট! তিনি যখন (কলেজে) প্রতিষ্ঠানে
আসতেন যতক্ষণ তিনি আমাদের সাথে থাকতেন
আমরা তাকে নিয়ে চিন্তা করতাম যে তিনি কি মানুষ ? নাকি ফেরেশতা ! সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ সাইয়্যেদুনা মুজাদ্দিদে আ'যম ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার শৈশব-কৈশর এর আদর্শ চরিত্র মুবারক কেমন ছিল
ঐ ভদ্রলোক এমন ভাবে উপস্থাপন করেন যে উনার ছাত্র জীবনের আচার-আচরণ, তাক্বওয়া,পরহেজগারী, নিরিবিলি অবস্থান, ধ্যানে-খেয়াল, জিকির-ফিকির, রিয়াজত-মুজাহাদা সব মিলিয়ে তিনি শৈশব থেকেই ছিলেন এক অনপম চরিত্র মুবারক উনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, সুবহানাল্লাহ। তিনি তো মহান রবের মনোনিত ও প্রেরিত মহান মুজাদ্দিদ, সুবহানাল্লাহ!

এবার আসুন আপনি/ আমি উনাকে কত বছর ধরে কেমন দেখে আসছি ?
এর জবাব আমি কি লিখবো আর কি বলবো! বুঝতে পারছি না!! আমার/ আপনার চোখে দেখা উনার ছানা- ছিফত প্রকাশ করতে মনে পড়ে -
হযরত যায়েদ বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সেই ক্বছিদা শরীফ তিনি নূরে মুজাসসাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারশানে কত চমৎকার বলেছেন -( ইয়া রাসুলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমি আমার ক্বাছিদায় আপনার প্রশংসা প্রকাশ করতে পারিনি বরং আপনার সম্মানে ও আযমতে আমার ক্বাছিদা প্রশংসিত হয়ে যায়! সুবহানাল্লাহ!
তার পরও কিঞ্চিত চেষ্টা -

আমি ২২/২৩ বছর ধরে উনাকে খুব কাছ থেকে যতটুকু দেখেছি,ছোহবত মুবারকে বসেছি -তা কিছু লিখার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ--

-চলবে ইনশাআল্লাহ 

হানাফী -

২/৩/১৪৪৭ হিজরী

 


শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট