দুনিয়ালোভী সালাবা ইবনে হাতিবের অভিশপ্ত জীবন: মুনাফিকদের সতর্কবার্তা !

দুনিয়ালোভী সালাবা ইবনে হাতিবের অভিশপ্ত জীবন: মুনাফিকদের সতর্কবার্তা !

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত মুবারক করেছেন খালি হাত মুবারকে । সঙ্গী সাথি যারা ছিলেন তারাও দুনিয়াবি দৃষ্টিতে সবাই আর্থিক সবকিছু ত্যাগ করে 

নিঃস্ব অবস্থায় সেখানে উপস্থিত হয়েছেন ।নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার  হিজরতের সঙ্গীদের অর্থ-সম্পদ-জমিজমা, বাড়িঘর,দিয়ে খিদমত করেছেন মদিনার সৌভাগ্যবান হযরত আনসার সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা।

যারা হিজরত করেছিলেন উনাদেরকে  বলা হয়-হযরত  মুহাজির বা হিজরতকারী।

আর উনাদেরকে যারা সহযোগিতা করেছিলেন তাদের  বলা হয়- হযরত আনসার বা সাহায্যকারী। মুহাজির ও আনসার হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের মর্যাদা সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফে আলাদা ভাবে অনেক পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে, সুবহানাল্লাহ !

সালাবা ছিলেন সূচনায় আনসারদের একজন। পুরো নাম সালাবা ইবনে হাতিব আল আনসারি।

ইমানের পথে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল সৌভাগ্যবান হিসেবেই। 

তবে নিজের অত্যাধিক লোভের কারণে নূরে মুজাস্সাম 

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অভিশাপ কুড়িয়ে চির হতভাগা লা'নত গ্রস্থদের খাতায় নাম লেখান বেচারা সালাবা। তাফসীরে ইবনে জারির ,ইবনে আবী হাতেম, ইবনে মারদুবিয়া, তাবরানী 

ইবনে কাসির, মা'রেফুল কুরআন ও বায়হাকী প্রমুখ হযরত আবূ উমামাহ বাহেলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে ঘটনাটি এভাবে উদ্ধৃত করেছেন যে, ধূ ধূ রোদেলা দুপুর । খেজুর গাছের ছায়ায় ঘেরা পবিত্র মসজিদে নববী শরীফে  হযরত সাহাবায়ে কেরামদের  নিয়ে বসে আছেন রাউফুর রহিম,রাহমাতুল্লিল আলামিন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি।

হঠাৎ কে যেন বলে উঠল- ‘ওগো আল্লাহর নবী! আমার জন্য একটু দোয়া মুবারক করুন মহান আল্লাহ পাক যেন আমাকে সম্পদে ভরপুর করে দেন। উম্মতের দরদী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ভালো করে তাকিয়ে দেখেলেন সালাবাকে । লোভে চকচক করছে তার জিহ্বা ! কথার মধ্যেই দুনিয়া হাছিলের লালসা ঢেউ খেলছে তার অবুঝ হৃদয়ে! রহমতের নবী দুজাহানের কান্ডারী তিনি যে, তার ইহ পরকাল সম্মোক অবগত।

তিনি জানতেন লোভের পরিণতি সা'লাবাকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মিষ্টি করে বললেন, ‘অঢেল সম্পদ পেয়ে না-শুকুর বান্দা হওয়ার চেয়ে অল্প পেয়ে শুকর গোজার বান্দা হওয়া অনেক ভালো।’ কিন্তু আফসোস হতভাগা সালাবা বুঝতে পারেনি নবুওয়াতি সতর্ক বার্তা। সে আবার বলল, ওগো দয়াময় রাসূল আমার জন্য একটু দোয়া করুন না! আমি যেন অঢেল সম্পদের মালিক হই। ’ রহমতের নবী আরও স্পষ্ট করে বোঝালেন-‘তুমি কি পার না নবী রসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ন্যায় অল্পে তুষ্ট হতে হে সায়লাবা ! ওহে ! সায়লাবা শুনো,আমি বললে মদিনার পাহাড়গুলো সোনায় পরিণত হয়ে আমার পেছনে চলবে। কিন্তু সম্পদ-বিলাসিতার পরিবর্তে দরিদ্র হালথ বেছে নিয়েছি আমি। ’

এবার বোধ হয় কিছুটা বুঝতে পেরেছে সালাবা! কী সতর্ক বার্তা তাঁকে করা হচ্ছে! সম্পদ-বিলাসিতা মানুষকে ধর্ম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আত্মীয়তার অধিকার রক্ষা থেকে বারণ করে। শুকর গোজার বান্দা হতে বাধা দেয়। কোনো কথা না বলেই এবার উঠে চলে গেল সালাবা!  অল্প কিছুক্ষণ পরে আবার ফিরে এসে একই আরজি পেশ করে সায়লাবা- ‘হে আল্লাহর নবী! আমি ওয়াদা করছি সম্পদ আমাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম থেকে দূরে রাখতে পারবে না। আমি মহান আল্লাহ পাক ও বান্দার হক্ব পুরোপুরিভাবে আদায় করব। আমার জন্য দোয়া মুবারক করুন আমি যেন প্রচুর সম্পদের মালিক হই।

সূরা আত তাওবাহ্ শরীফ এর ৭৫ নং আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ তায়ালা সেই দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ عٰہَدَ اللّٰہَ لَئِنۡ اٰتٰىنَا مِنۡ فَضۡلِہٖ لَنَصَّدَّقَنَّ وَلَنَکُوۡنَنَّ مِنَ الصّٰلِحِیۡنَ

অর্থঃ তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সঙ্গে অঙ্গীকার করেছিল যে, তিনি যদি নিজ অনুগ্রহে আমাদেরকে দান করেন, তবে আমরা অবশ্যই সদকা/ যাকাত আদায় করব এবং নিঃসন্দেহে আমরা সৎলোকদের অন্তর্ভুক্ত হব।

নাছোড় বান্দা সালাবা !  অঙ্গীকার ভালো নিয়তের। অগত্যা দোয়া মুবারকে হাত মুবারক উঠালেন নূর নবীজি- ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম‘হে রব্বে কারিম দয়াময় প্রভূ! সালাবাকে আপনি অঢেল সম্পদ দান করুন। ’ দোয়া মুবারক কবুল হলো । হাতেগোনা কয়েকটি ছাগলের মালিক সালাবা অল্প দিনের ব্যবধানে প্রচুর ছাগলের মালিক বনে গেল। তার ছাগলগুলো এত দ্রুত এবং এত বেশি বাচ্চা দিতে লাগল যে, নগরীর ছোট্ট খামারে জায়গা সংকুলান হলো না। সে চলে গেল পবিত্র মদিনা শরীফ থেকে বেশ দূরে এক খোলা ময়দানে। দূরত্বের কারণে পবিত্র জোহর ও আসর নামাজ ছাড়া আর কোনো নামাজ নূর নবীজি উনার সঙ্গে জামাতে আদায় করা সম্ভব হয় না তার। এর কিছুদিন পর ব্যস্ততার অজুহাতে কেবল জুমার নামাজ মসজিদে নববী শরীফে এসে পড়ত সালাবা। আরও কিছুদিন পরের কথা। ততদিনে সে হয়ে উঠেছে মদিনার নামকরা ধনী! খামারের পরিধি বাড়িয়ে আরও দূরে চলে গেল সায়লাবা!  দূরে চলে গেল মসজিদে নববী শরীফ থেকে এবং আল্লাহ পাক উনার নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকেও ! এখন ভূলে গেছে দ্বীনের কথা ! হায়! এখন আর রহমতের নবীর পেছনে জুমা পড়ারও সময় হয় না। একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘অনেক দিন হলো সালাবাকে দেখি না!  তার কী হয়েছে?’ হযরত সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা বললেন, ‘সে এখন ভীষণ ব্যস্ত,বড় ব্যবসায়ী। তার প্রচুর ছাগল, অনেক বড় খামার। অনেক দূরে তার বাসা। মসজিদে আসার সময়-সুযোগ কোনোটাই হয় না তার। এসব শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে নবীজি বললেন-

يا ويح ثعلبة يا ويح ثعلبة يا ويح ثعلبة

 ‘আফসোস! সালাবা শেষ হয়ে গেল! সালাবা শেষ হয়ে গেল! সালাবা শেষ হয়ে গেল!’

ঠিক এমন সময় পবিত্র জাকাত উনার আয়াত শরীফ নাযিল হলো।

মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন 

خُذۡ مِنۡ اَمۡوَالِہِمۡ صَدَقَۃً تُطَہِّرُہُمۡ وَتُزَکِّیۡہِمۡ بِہَا وَصَلِّ عَلَیۡہِمۡ ؕ اِنَّ صَلٰوتَکَ سَکَنٌ لَّہُمۡ ؕ وَاللّٰہُ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ 

(সূরা তাওবা ১০৩)

(হে হাবীব মাহবুব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এদের সম্পদ হতে ‘সাদাকা’ গ্রহণ করুন । এটা দিয়ে আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং পরিশোধিত করবেন। আপনি তাদের জন্য দোয়া মুবারক করবেন । আপনার দোয়া মুবারক তো তাদের জন্যে শান্তির কারণ। মহান আল্লাহ্ পাক সর্বশ্রোতা, ও সর্বজ্ঞ।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাবার কাছে নোটিস দিয়ে দুজন যাকাত আদায় কারী সাহাবীদ্বয়কে পাঠালেন ! উনারা তার সাথে সাক্ষাত করে যাকাত প্রদানের নির্দেশ মুবারক শুনান।

সব শুনে সালাবা বলল, ‘এটা তো জাকাত না, কর আদায়ের নোটিস ! তাহলে কি এখন কাফেরদের ন্যায় কর/ টেক্স নেওয়া শুরু করছেন!? নাউজুবিল্লাহ নাউজুবিল্লাহ নাউজুবিল্লাহ!

আপনারা পরে আসুন আমি ভেবে দেখি। ’ শেষ পর্যন্ত সে আর জাকাত দিলই না। মহান আল্লাহর সঙ্গে করা ওয়াদা সে ভুলে গেছে। নূর নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিষয়টি জানতে পেরে বললেন, ‘আহা! সালাবা ধ্বংস হয়ে গেছে! সালাবা ধ্বংস হয়ে গেছে! সালাবা ধ্বংস হয়ে গেছে!’ ওই মজলিসে সালাবার এক নিকটাত্মীয়ও ছিল। সে সালাবাকে বিষয়টি জানাল। এবার হুঁশ ফিরল তার। দৌড়ে এসে নূর নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কদম মুবারকে লুটিয়ে পড়ল। বলল, ‘ওগো আল্লাহর নবী! আপনি আমার সম্পদ থেকে যে পরিমাণ ইচ্ছা জাকাত নিয়ে নিন। ’

মহান আল্লাহ পাক পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করেন -فَاَعۡقَبَہُمۡ نِفَاقًا فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ اِلٰی یَوۡمِ یَلۡقَوۡنَہٗ بِمَاۤ اَخۡلَفُوا اللّٰہَ مَا وَعَدُوۡہُ وَبِمَا کَانُوۡا یَکۡذِبُوۡنَ 

অর্থাৎ -পরিণামে তিনি এদের অন্তরে কপটতা স্থির করলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ-

দিবস পর্যন্ত, কারণ তারা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট যে অঙ্গীকার করেছিল তা ভঙ্গ করেছিল; কারণ তারা ছিল মিথ্যাচারী।—আত তাওবাহ্ - ৭৭

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘ওহে সালাবা! এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তোমার জাকাত নিতে মহান আল্লাহ পাক আমাকে বারণ করেছেন। এমনটি শুনে সালাবা মাটিতে গড়াগড়ি খেয়ে আফসোস করতে লাগল। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তি বললেন, ‘তোমার এই হা-হুতাশও এক ধরনের প্রতারণা।নাউজুবিল্লাহ 

আমি তোমাকে আগেই সতর্ক করেছিলাম। এখন আর তোমার কোনো সদকা নেওয়া যাবে না। ’ কিছুদিন পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন । পরবর্তীতে হতভাগা সালাবা খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক আলাইহিস সালাম উনার দরবারে সম্পদের জাকাত নিয়ে হাজির হলে সিদ্দিকে আকবর তিনিও তার যাকাত রাখেননি। পরে হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম উনার দরবার তার জাকাত আদায়ের জন্য হাজির হন কিন্তু তিনিও তার যাকাত গ্রহণ করেননি, নাউজুবিল্লাহ! সর্বশেষ ইতিহাসের নিকৃষ্টতম লা'নত গ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মৃত্যু বরন

মহান আল্লাহ পাক, উনার হাবীব মাহবুব নূরে মুজাস্সাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম ও উনাদের অসুন্তুষ্ঠি থেকে মহান আল্লাহ পাক আমাদের হেফাজত করুন,আমীন!

হানাফী --

১৯/৩/১৪৪৭ হিজরী 





 

মহান আল্লাহ পাক উনার রস্হায় খরচের ফযিলত ও প্রয়োজনীয়তা :-

মহান আল্লাহ পাক উনার রস্হায় খরচের ফযিলত ও প্রয়োজনীয়তা :-

     


    مَثَلُ الَّذِیۡنَ یُنۡفِقُوۡنَ اَمۡوَالَہُمۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ کَمَثَلِ حَبَّۃٍ اَنۡۢبَتَتۡ سَبۡعَ سَنَابِلَ فِیۡ کُلِّ سُنۡۢبُلَۃٍ مِّائَۃُ حَبَّۃٍ ؕ وَاللّٰہُ یُضٰعِفُ لِمَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَاللّٰہُ وَاسِعٌ عَلِیۡمٌ 

যারা নিজেদের ধন- সম্পদ মহান আল্লাহ্ পাক উনার পথে ব্যয় করে তাদের উপমা একটি শস্যবীজ, যা সাতটি শীষ উৎপাদন করে, প্রত্যেক শীষে একশত শস্যদানা। মহান আল্লাহ্য পাক যাকে ইচ্ছা বহু গুণে বৃদ্ধি করে দেন। আল্লাহ্ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।

ব্যাখ্যাঃ

যারা আল্লাহ্‌র পথে খরচ করে তাদের উপমা এমন যেমন কেউ গমের একটি দানা উর্বর ভূমিতে বপন করল। ঐ দান হতে একটি চারাগাছ গজাল। যাতে গমের সাতটি শীষ এবং প্রত্যেকটি শীষে একশ করে দানা থাকে। অর্থাৎ একটি দানা হতে সাতশ দানা জন্মিল। তবে স্মরণ রাখা কর্তব্য যে, উক্ত ব্যয় হতে কাঙ্খিত ফল লাভ করতে হলে নিম্নের শর্ত সমূহ পূর্ন করতে হবে। (১) সম্পদ হালাল হতে হবে। (২) যে দান করবে তাঁর উদ্দেশ্য সৎ হতে হবে। (৩) খরচের খাত যোগ্য হতে হবে। (৪) দান করার পর অনুগ্রহ করেছে এমন ধারণা পোষণ করতে পারবে না। এবং (৫) গ্রহীতাকে ঘৃণা করা যাবে না। উল্লেখিত শর্তাবলী পুরণে  ব্যর্থ হলে দানের সুফল আশা করা যায় না (মা কু)—আল বাকারা - ২৬১

 قُلۡ لِّعِبَادِیَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا یُقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَیُنۡفِقُوۡا مِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ سِرًّا وَّعَلَانِیَۃً مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَ یَوۡمٌ لَّا بَیۡعٌ فِیۡہِ وَلَا خِلٰلٌ 

হে আমার হাবীব মাহবুব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আমার বান্দাদের মধ্যে যারা মু’মিন তাদেরকে বলে দিন,সালাত কায়েম করতে এবং আমি তাদেরকে জীবিকা হিসেবে যা দিয়েছি তা হতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করতে-সেই দিনের পূর্বে যেদিন ক্রয়-বিক্রয় ও বন্ধুত্ব থাকবে না।’

(পবিত্র সূরা ইব্রাহীম শরীফ ৩১

   وَاٰتٰىکُمۡ مِّنۡ کُلِّ مَا سَاَلۡتُمُوۡہُ ؕ  وَاِنۡ تَعُدُّوۡا نِعۡمَتَ اللّٰہِ لَا تُحۡصُوۡہَا ؕ  اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لَظَلُوۡمٌ کَفَّارٌ  

এবং তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন তোমরা তাঁর নিকট যা কিছু চেয়েছ তা হতে। তোমরা মহান আল্লাহ্ পাক উনার অনুগ্রহ গণনা করলে এর সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না!মানুষ অবশ্যই অতিমাত্রায় জালিম, অকৃতজ্ঞ, নাউজুবিল্লাহ 

(পবিত্র সূরা ইব্রাহীম শরীফ- ৩৪)

মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা,বামৈ, লাখাই, হবিগঞ্জ । স্থাপিত:-১৪৩১ হিজরী

মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা,বামৈ, লাখাই, হবিগঞ্জ । স্থাপিত:-১৪৩১ হিজরী

আসসালামুয়ালাইকুম!

মুহতারাম ! আমাদের মাদ্রাসাটি এই আখেরি জামানায় সত্যিকার দ্বীন ইসলাম ও পরিপূর্ণ সুন্নাহ অনুযায়ী ইলিম আমল আখলাক শিক্ষা দেওয়ার একটি অদ্বিতীয় দ্বিনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সুবহানাল্লাহ। 

আগামী ৬ নভেম্বর ২০২৫ ইং রোজ বৃহস্পতিবার মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিল।প্রতি মাসে মাদ্রাসার অনেক খরচ । তাই মাহফিল উপলক্ষে কিছু ফান্ড সংগ্রহ করা হয় যাতে সারা বছরের ঘাটতি পূরণ করা যায়।

আপনার প্রতি উদাত্ত আহ্বান! আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী উক্ত মাদ্রাসার ফান্ডে কিছু অর্থ দিয়ে দ্বীনি কাজের অগ্রগতিতে সহযোগিতা করবেন বলে আশাবাদী ।

 জনাব,এড়িয়ে যাবেন না !

 মনে রাখবেন বর্তমান সময়ে প্রায় অধিকাংশ মানুষই শুধু বছরে MB ক্রয় করে খরচ করেন,সর্বনিম্ন ৫থেকে 

৭ হাজার টাকা ! 

তাও রাত দিন অধিকাংশ সময়ই গুনাহর কাজেই এই অর্থ খরচ হয়,নাউজুবিল্লাহ ।

তাই কমপক্ষে 500-1000 টাকা বিকাশ করে 

উক্ত নেক কাজে শরীক হবেন বলে আশাবাদী 

মহান আল্লাহ পাক কবুল করুন,আমিন।


মুফতি মুহম্মদ তোফাজ্জল হোসাইন হানাফী 

মুহতামিম, মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বামৈ, লাখাই,হবিগঞ্জ। বিকাশ- ০১৭২৬-৭০২২৩৩

কিতাবি ইস্তেদাদ--মাওলানা আবু সাবের আব্দুল্লাহ

কিতাবি ইস্তেদাদ--মাওলানা আবু সাবের আব্দুল্লাহ

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

দরসে নেজামির অনেকগুলো উদ্দেশ্য আছে। এর অন্যতম বড় উদ্দেশ্য হল, মূল উৎস (مصادر أصلية) থেকে উলুমে ইসলামিয়া আয়ত্ত করার যোগ্যতা অর্জন। 

এই যোগ্যতার অনেক ধাপ আছে , স্তর আছে। এর প্রাথমিক স্তর হল,

১. সহিহ ই‘রাব দিয়ে বিশুদ্ধভাবে ইবারত পাঠ করতে পারা।

২. তারকিব বুঝতে পারা। তারকিব বোঝার অর্থ হল,

o ضمير এর مرجع বোঝা,

o اسم اشارة এর مشار إليه বোঝা,

o حال ও তার তারকিব বোঝ,

o মুবতাদা, খবর বোঝা

o ফেয়েল ফায়েল বোঝা ইত্যাদি

৩. সাবলীল অনুবাদ করতে পারা।

৪. ইবারতের সঠিক মতলব বা উদ্দেশ্য বুঝতে পারা।

সঠিকভাবে ইরাব দিতে পারা, তারকিব বোঝা, সাবলীর অনুবাদ করতে পারা এবং সঠিক মতলব অনুধাবন করা। --এই চারটি যোগ্যতার সমন্বয়ই মূলত কিতাবি ইস্তেদাদের প্রাথমিক স্তর।

এখন কথা হল এই প্রাথমিক যোগ্যতাটা কিভাবে অর্জন করব?

এর জন্য মৌলিকভাবে তিনটি উসূল মনে রাখতে হবে। আমল করতে হবে--

১. কিতাব ও মতন নির্ভর পড়াশোনা করতে হবে, شرح বা নোট নির্ভর পড়াশোনা করা যাবে না।

মতন নির্ভর পড়াশোনার অর্থ হল, মতন থেকে উদ্দিষ্ট বিষয়টি আয়ত্ত করার

সর্বাত্মক চেষ্টা করা। এর জন্য প্রথমে অন্তত তিন বার চূড়ান্ত মনোযোগ সহকারে

মতন পড়তে হবে। এবং মতন থেকে মাসআলাটা বোঝার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। যদি পর্যাপ্ত চেষ্টা করার পরও মতন থেকে মাসআলা বুঝে না আসে, তাহলে হাশিয়ার সহযোগিতা নেওয়া যাবে। এরপরও যদি বুঝ না আসে, তাহলে শরাহের সহযোগিতাও নেওয়া যাবে। তবে শর্ত হল, হাশিয়া ও শরাহ অবশ্যই আরবি হতে হবে। বাংলা বা উর্দূ হওয়া চলবে না। 

আর শরাহ নির্ভর পড়ালেখার অর্থ হল, উদ্দিষ্ট মাসআলা মূল মতন থেকে না বুঝে শরাহ বা নোট থেকে বোঝার প্রবণতা।

২. আরবি নির্ভর পড়ালেখা করতে হবে, বাংলা বা উর্দূ নির্ভর পড়ালেখা সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে হবে।

আরবি নির্ভর পড়ালেখার অর্থ হল, আরবিকে বোঝার মূল মাধ্যম বানানো। আর বাংলা বা উর্দূ নির্ভর পড়ালেখার অর্থ হল, আরবিকে ভয় করে বাংলা বা উর্দূ কিতাবাদি পড়া এবং সেখান থেকে কাজ সেরে ফেলার ধোঁকায় পড়া।

হ্যা. মাসআলা বোঝার পর, আরবি ব্যাখ্যা গ্রন্থ মুতালার পর বাড়তি এতমিনানের জন্য প্রথমে উর্দু তারপর বাংলা শরাহ দেখা যেতে পারে।  অতিরিক্ত জ্ঞানের জন্য বাংলা বা উর্দূ কিতাবাদি মুতালা করতে দোষ নেই। যেমন কাফিয়ার একটি মাসআলা হল করার পর মাথায় এল, দেখি দেওবন্দ ওয়ালারা কী লিখেছেন। বা বাংলাদেশের বাংলা ব্যাখ্যা গ্রন্থ লেখকরা কী লিখেছেন। বা তারা

কিভাবে মাসআলাটা উপস্থাপন করছেন। তাদের লেখায় নতুন কোনো জিনিস এসেছে

কিনা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে পড়াটা দোষ নয়। বরং প্রশংসার বিষয়। এটা সহযোগিতা নেওয়া।

এটা উর্দূ বা বাংলা নির্ভর লেখাপড়া নয়। তাই এতে কোনো সমস্যা নেই।

৩. ইলম নির্ভর পড়ালেখা করা, পরীক্ষা নির্ভর পড়া লেখা না করা।

পরীক্ষা নির্ভর পড়ালেখার অর্থ হল, মাসআলা বোঝার দরকার নেই। দরকার হল,

পরীক্ষায় পাস করা বা সনদ অর্জন করা। তাই পুরো কিতাব না পড়া। শুধু মহল্লে ইমতেহান পড়া। মাসআলার গভীরে প্রবেশ করার চেষ্টা না করা। শুধু গাইড পড়া বা বিগত বছরগুলির প্রশ্ন সাজেশন ও তার উত্তর সাজেশন পড়া এবং এর পেছনেই রাত দিন মাটি করা।

মনে রাখবে, পরীক্ষা ও সনদ নির্ভর পড়ালেখা আমাদের কাওমি মাদরাসার মেযাজের খেলাফ। বেফাক, হাইয়ায় মুমতায হওয়াই ইস্তেদাদের প্রধান মানদণ্ড নয়।

উপরোক্ত তিনটি উসুল সামনে রেখে ইস্তেদাদের প্রাথমিক স্তর অর্জনে আমাদেরকে নিম্নোক্ত কাজগুলো নিয়মিত করতে হবে। এক্ষেত্রে থানভী রাহ. এর বিখ্যাত উক্তিই শুধু উল্লেখ করতে চাই। তিনি তার “নাসিহুত

তলাবা” গ্রন্থে বলেন, যে ছাত্র এই চারটি কাজ করবে, তার আলেম হওয়ার জিম্মাদার আমি আশরাফ আলি!!

কাজ চারটি হল,

১) সামনের সবক পড়ে দরসে বসা।

এখানে সবক পড়ার সময় আগের চারটি বিষয় খেয়ার করে পড়তে হবে। সেগুলো

আবার বলছি--

 নিজে নিজে ইবারত পড়া

 নিজে নিজে তারকিব করা

 নিজে নিজে অর্থ করা

 নিজে নিজে মতলব বের করা

এক্ষেত্রে ফরকে মারাতেব হতে পারে। কেউ হয়ত চার আনা বুঝবে, কেউ হয়ত ছয়

আনা বুঝবে, কেউ হয়ত আট আনা বুঝবে, কেউ হয়ত কিছুই বুঝবে না। এটা নিয়ে

চিন্তা করার কিছু নেই। কারণ এই মুতালার উদ্দেশ্য হল মা‘লুমাত থেকে

মাজহুলাত আলাদা করা। এবং বোঝার চেষ্টা করা। একেবারে খালিউজ জেহেনে

দারসে না বসা।

২) নিয়মিত দরসে উপস্থিত থাকা।

মনে রাখবে, যে ছাত্র একটি দরসও কামাই দেয়, সে গত এক সপ্তাহে যতটুকু

এগিয়ে গিয়েছিল তার চেয়ে বেশি পিছিয়ে যায়। তাই দরসে উপস্থিত থাকা খুব

গুরুত্বপূর্ণ। তবে দরসে শুধু শরীর নিয়ে উপস্থিত থাকলেই হবে না। বরং “আমি আজকের পড়াটা বুঝবই” এমন সংকল্প নিয়ে দরসে বসা। “তাকরারে বুঝে নিব” এধরনের চিন্তাভাবনা পরিহার করা।

#  দরসে পিনপতন নীরাবতা ( الإصغاء ) অবলম্বন করা। অপ্রয়োজনীয় কথাবর্তা বা হৈ হুল্লোড় না করা।

 # কান পেতে (الاستماع) উস্তাদের সব কথা শোনা

# গভীর মনোযোগ সহকারে উস্তাদের পড়া বোঝা। বুঝে না আসলে আদবের সাথে প্রশ্ন করা।

৩) তাকরার করা

তাকরার খুব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। এর মাধ্যমে ইফহাম-তাফহিমের মাদ্দাহ তৈরি

হয়। অনেক আলেম আছেন, যারা অনেক ইলম ওয়ালা। কিন্তু তারা আরেক জনকে

নিজেদের মনের কথা বুঝাতে পারেন না। তারা কিন্তু ইন্তেকালের সময় নিজেদের

ইলম নিয়েই কবরে যাবেন। কেউই তাদের ইলমের দ্বারা উপকৃত হতে পারবে না।

তাই নিজের মনের কথা যেন সাবলীলভাবে অন্যের কাছে পৌঁছে দিতে পারি, সেজন্য

গুরুত্ব সহকারে তাকরার করা ও তাকরারে বসা।

থানভী সাহেব বলেন, ইস্তেদাদের জন্য এই তিনটি হল জিনিস ফরজ। আরেকটি

জিনিস মুস্তাহাবের পর্যায়ের। সেটা হল--

৪) প্রতিদিন পেছনের কিছু পড়া পুরাবৃত্তি করা।

আমি এখানে আরেকটি কথা যোগ করতে চাই, তা হল,

৫)  মুযাকারা করা।

দুজন দুজনে মুযাকারার দ্বারা অনেক কিছু হল হয়ে যায়। ইফহাম তাফহিমের মাদ্দাহ পয়দা হয়। তাই মুযাকারার প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

আল্লাহ, এই কথাগুলোর মধ্য যেগুলো অকল্যাণকর, সেগুলো আমাদের অন্তর থেকে মুছে দিন। আর যেগুলো আমাদের জন্য উপকারী, নাফে, মুফিদ সেগুলোকে আমলে আনার তাওফিক দান করুন ।

কপি পেস্ট 

আফসোস ! শত আফসোস!! মারে আস্তিন !!!

আফসোস ! শত আফসোস!! মারে আস্তিন !!!

ফার্সি বাসায় একটি শব্দ মালা আছে 'মারে আস্তিন'

শাব্দিক অর্থে 'জামার হাতার সাপ'! হয়তো বা প্রবচনটি শুনতেই 'গা'শিউরে উঠেছে! যি ঠিকই গা শিউরে উঠার কথা! সাপ- বিচ্ছুর কথা শুনতে 'গা' যথটা না শিহরিত হয় তার চেয়েও ভয়ঙ্কর ভাবে'জামার হাতার সাপ'শুনলে শরীরের পশমসহ রক্ত-গোস্ত শিহরিত হবে !! বাহিরে গর্তে সাপ থাকা আর জামার ভিতরে সাপ থাকার ভাবার্থ বুঝতেই পারছেন!? 'মারে আস্তিন' শব্দ মালার শাব্দিক অর্থে 'জামার হাতার সাপ' বুঝালেও প্রবচনটি ব্যবহৃত হয় গাদ্দার ও বিশ্বাসঘাতকদের বোঝাতে ।

মূলত 'বন্ধু রুপি শত্রু'ও 'ঘরের শত্রু' বলে যা বোঝায় মূলত তাই বুঝানো হয়ে থাকে । আসলে গাদ্দারদের অপরাধ বোঝাতে আস্তিনের সাপ শব্দটি যথেষ্ট নয় । কেননা জামার হাতায় থাকা সাপের ছোবলে কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই মারা যেতে পারে প্রক্ষান্তরে কোন গাদ্দারের বিষাক্ত ছোবলে শুধু একজন ব্যক্তি নয়,একটি   

পরিবার, একটি সমাজ, এমনকি ধ্বংস হতে পারে পুরো একটি রাষ্ট্র একটি সমৃদ্ধ জাতি ,একটি আদর্শ ধর্মীয় কাঠামো! নাউজুবিল্লাহ ! এই বিশ্বাস ঘাতক গাদ্দারদের রং-রূপের যে ধরণ,তাদের আসল রূপ ধরাই মহা চ্যালেঞ্জ । তারা রঙে-রূপে যেমন আশরাফুল মাখলুকাত,তাদের ছোবলের বিষক্রিয়াও তেমনই বিষাক্ত। তারা ছুরতান মানুষ হলেও তাদের অন্তর নেকরে বাঘের চেয়েও ভয়ঙ্কর 

হিংস্র। ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতিতে তারা প্রকাশ্য শত্রু ইহুদী-খৃষ্টান তাবত কাফের মুশরিকদের চেয়েও তুলনায় অধিকতর ভয়ানক । কারণ মানুষ প্রকাশ্য শত্রু থেকে বাঁচার ব্যবস্থা জানতে পারলেও লেভেলদারী আস্তিনের ভিতরের গাদ্দার বিশ্বাস ঘাতকদের থেকে বাঁচার কোন উপায় খুঁজে পাওয়া বড় দুষ্কর। ইতিহাস পড়লে অনুমান করা যায়,যুগে যুগে ঘরের শত্রুরা সম্মানিত দ্বীন ইসলামের যে পরিমাণ ক্ষতি করেছে প্রকাশ্য শত্রুরা তার১০ ভাগের এক ভাগও করতে পারিনি ।সম্মানিত দ্বীন ইসলামের শুরু থেকেই ঘরের শুত্রুরা আসল রূপ গোপন রেখে ইসলামের যে পরিমাণ ক্ষতি সাধন করছে তা ঐতিহাসিক ভাবে ভূলার মতো না। এমনকি আখিরী রাসূল,রাউফুর রহিম,রাহমাতুল্লিল আলামিন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে পরিমাণ কষ্ট দিয়েছে,এই গাদ্দার গোষ্ঠী সেই ইতিহাস পড়তেও আত্মা কেঁপে উঠে। এই বিশ্বাস ঘাতক গাদ্দারের গোষ্ঠীর একটি চিরাচরিত নিয়ম হলো-সাদামাঠা দুধের মতো ছূরত ধারণ করে সুযোগ সন্ধানে ইসলাম ও মুমিনদের স্পর্শকাতর বিষয়ে তারা আঘাত হানবে, নাউজুবিল্লাহ! যেমন ইফক্বের ঘটনা তার ঐতিহাসিক প্রমাণ। নাউজুবিল্লাহ!নাউজুবিল্লাহ !!

ঐতিহাসিক প্রমাণিত -মুসলিম জাতি সত্তার উপর বড় বড় যে সমস্ত বিপর্যয় নেমে এসেছিল এর মূলেই ছিল এই বিশ্বাস ঘাতক গাদ্দারদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর । এদের বিষাক্ত ছোবল এতোই প্রতিক্রিয়াশীল যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-গোষ্ঠীর সীমা অতিক্রম করে পুরা জাতীকে এর উপশম পেতে কয়েক শতাব্দি সময় লেগে যায়। নাউজুবিল্লাহ!

তাদের ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বিষক্রিয়ার তিব্রতা এতো বেশি 

যা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পুত পবিত্রতম মহান হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পর্যন্ত  ভীষণ ভাবে আঘাত হানে, নাউজুবিল্লাহ! ইফক্বের ঘটনার পর হযরত উম্মুল মুমিনিন সিদ্দিক্বা আলাইহাস সালাম তিনি দীর্ঘ দিন পর্যন্ত কিছু না খেয়ে কাঁদতে কাঁদতে উনার জিসিম মুবারক শুকিয়ে যায়, নাউজুবিল্লাহ!

পবিত্র কুরআন শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে -জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্হরে তাদের স্হায়ী ঠিকানা, নাউজুবিল্লাহ।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে বর্তমান সময়ের সকল বিশ্বাস ঘাতক গাদ্দার মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র চক্রান্ত ও বিষাক্ত ছোবল থেকে হিফাজত করুন, এবং ঈমান -ইসলামের পথে চূড়ান্ত ভাবে কবুল করুন ইস্তেকামত থাকার তৌফিক দান করুন আমীন । 

হানাফী 

২৫/৩/১৪৪৭ হিজরী 

রাত ২:৩৯ 

অনুপম চরিত্র মুবারক-ই জামানার লক্ষস্হল ওলীআল্লাহ ও মুজাদ্দিদে আ'যম হওয়ার বড় প্রমাণ, সুবহানাল্লাহ!-২

অনুপম চরিত্র মুবারক-ই জামানার লক্ষস্হল ওলীআল্লাহ ও মুজাদ্দিদে আ'যম হওয়ার বড় প্রমাণ, সুবহানাল্লাহ!-২

পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত ওলীদের তিনটি বিশেষ ছিফত মুবারক ১.যাদেরকে দেখলে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব মাহবুব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কথা স্বরন হয় ।
২. যার আমল দেখলে আমল করার ইচ্ছা হয়
৩. যার কথা শুনলে দ্বীনি ইলম বৃদ্ধি পায় তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী, সুবহানাল্লাহ।
উল্লিখিত হাদীছ শরীফে বর্ণিত প্রতিটি ছিফত মুবারক উনার উজ্জ্বল আলোক বর্তিকা হলেন মহান মুজাদ্দিদ আ'যম আলাইহিস সালাম তিনি, সুবহানাল্লাহ!

আপনি উল্লেখিত হাদীস শরীফ উনার মিছদাক দেশের আরো দু-এক জনের নাম উল্লেখ করে যান যিনি এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার পূর্ণ মেছদাক্ব,আমি সেখানে যাবো,দেখবো প্রশান্তি নিবো ইনশাআল্লাহ। পূর্ণাঙ্গ দেখাতে পারবেন না তা নিশ্চিই আপনি আমি খুব ভালো করে বুঝতে পারছি, আলহামদুলিল্লাহ ।

উপরোল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ খানার প্রতি আপনি একটু গভীর ফিকির করুন, প্রয়োজনে মুরাকাবা করুন
দেখেন,হিসাব খসেন, উপলব্ধি করেন কি বুঝা যায়!?
আপনি আমি যখন দেশের অধিকাংশ পীর, মাওলানা, মুফতি,ওলী দাবিদারদেরকে দেখি তখন কি মনে পরে ? আল্লাহ পাক উনার হাবীব উনাদের কথা কি মনে পরে? পরে না।
, অধিকাংশ পীরদের দেখে কখনো আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব মাহবুব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কথা স্বরন হয় না। বরং তাদের দেখলে মনে পড়ে দুনিয়ার কথা, ভোয়া খিলাফত নিয়ে ভোয়া পীর সাজার কথা, গনতন্ত্রী মৌলভী-পীরদের দেখলে মনে পরে কিভাবে নেতা হওয়া যায়, মনে পরে গনতন্ত্রের প্রবক্তা আব্রাহামের কথা ! লংমার্চ এর প্রতিষ্ঠাতা মাওসেতুং এর কথা ! হরতালের প্রবক্তা মহনদাসের কথা! নাউজুবিল্লাহ!

তাদের মাদ্রাসার পড়লে স্বরন হয় কথিত জাতীয় সংগীত এর লেখক ঠাকুর- ঠগের কথা! তাদের পোশাক- আশাক দেখলে মনে হয় ইংরেজ বেনীয়াদের কথা, তাদের চাকুরী -ডিগ্রী দেখলে মনে হয় কিভাবে কাঠ্রা কাফেরদের গোলাম বনা যায়! এমনকি তাদের কতেককে দেখলে দাঁড়ি গোঁফ কাটিং করে অতি আধুনিক হতে ইচ্ছে হয়, নাউজুবিল্লাহ!
অর্থাৎ যেখানে যুগের অধিকাংশ পীর মাওলানাদের দেখলে অন্তরে দুনিয়ার জশ খ্যাতি,চাক- চখ্য,লোভ
-লালসা, হারামের প্রতি আকর্ষণ সহ সমস্ত গাইরুল্লাহর সাগরে নাকানিচোবানি খাওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকে না।

সেই সময়,সেই মুহূর্তে জামানার ইমাম ও মুজতাহীদ সাইয়্যেদুনা মুজাদ্দিদে আ'যম আওলাদে রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে দেখলে একটি সাধারণ মানুষ তার দুনিয়াদারীর কথা ভুলে যায়, সুবহানাল্লাহ। এমনকি একজন সাধারণ মুসলমান সুমহান দরবার শরীফ প্রবেশ করে মামদুহজী উনাকে দেখার পর তার রক্তে মেশানো মোবাইল,পরিবার, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সমস্ত দুনিয়াদারীর কথা এমন ভাবে ভুলে যান যেন সে নতুন কোন গ্রহে অবস্থান করছেন, সুবহানাল্লাহ।
উনাকে দেখলে সত্যি সত্যিই মহান খালিক্ব মালিক রব আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কথা উনাদের মহব্বত, অনুসরণ, অনুকরণের মধ্যেমে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি-রেজামন্দি হাছিল করার জন্য মন হয়ে যায় এক চাতক পাখি। সুবহানাল্লাহ।

কেন ? এটার প্রমাণ কি আপনি/ আমি নিজে না? এটাও কি অস্বীকার করা যাবে? যাবে না। কারণ তিনি সত্যিই মহান আল্লাহ পাক উনার একজন লক্ষস্হল ওলী- আল্লাহ, নূরে মুজাসসাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখ্খাছ্ছুল খাছ আওলাদ, সুবহানাল্লাহ ।যার ছোহবত মুবারকে লোহা-স্বর্ণ হয়,মুর্দা ক্বালব জিন্দা হয়,বিদয়াতী সুন্নতী হয়, মূর্খরাও জ্ঞানী হয়, তিনি তো নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি প্রাপ্ত ও মনোনিত মহান মুজাদ্দিদে আ'যম সুলতানুন নাছির আলাইহিস সালাম, সুবহানাল্লাহ ! চলবে ---

হানাফী --
৫/৩/১৪৪৭ হিজরী

অনুপম চরিত্র মুবারক-ই জামানার লক্ষস্হল ওলীআল্লাহ ও মুজাদ্দিদে আ'যম হওয়ার বড় প্রমাণ, সুবহানাল্লাহ-১

অনুপম চরিত্র মুবারক-ই জামানার লক্ষস্হল ওলীআল্লাহ ও মুজাদ্দিদে আ'যম হওয়ার বড় প্রমাণ, সুবহানাল্লাহ-১


আমরা জানি পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয় নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার ৪০ বছর বয়স মুবারক থেকে ।
তিনি ইসলামের দাওয়াত মুবারক শুরু করেন ৪০ বছর বয়স মুবারক থেকে। অর্থাৎ নবুওয়াত মুবারকের আনুষ্ঠানিকতার পর। প্রশ্ন হলো আখিরী রাসুল নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার প্রথম ৪০ বছর বয়স মুবারক কোন কাজে লেগেছে ? কেন মহান পবিত্রতম জীবন মুবারক উনার ১ম ৪০ খানা বছর ইসলামের দাওয়াত দেননি! তাওহীদের দাওয়াত, সত্য-মিথ্যার দাওয়াত দেন নি ?! মহান রব কেন ৪০ বছর পর্যন্ত দাওয়াত ও তাবলীগ করতে ওহী মুবারক নাজিল করেন নি ?

ভালো করে চিন্তা করুন তো ! ইহার হাক্বীকত কি ?
মূলত লক্ষ-কোটি কারণ আছে । একটি কারণ আলোচনা করলে আমাদের আলোচ্যসূচি বুঝতে সহজ হবে ইনশাআল্লাহ। আইয়্যামে জাহিলিয়্যাতের ঘোর অন্ধকার অমানিশার দীর্ঘ কাল পার হয়ে যখন আলোর প্রয়োজন অনিবার্য হয়েছে, মহান রব তায়ালার ইচ্ছায় উনার হাবীব মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জমিনে পাঠিয়েছন । উনার আগমনের পূর্বাপর থেকেই প্রকাশিত হয়েছে অসংখ্য মুজিযা শরীফ । অর্থাৎ তিনি তো নবী- এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রসূল হয়ে ই জমিনে তাশরিক মুবারক গ্রহণ করেছেন সুবহানাল্লাহ। তার পরও তিনি
দাওয়াত, তাবলীগ, তাওহীদ,রিসালত,হারাম-হালাল,
কুফর শিরক কোন বিষয়ে আদেশ-নিষেধ মুবারক করেননি। তার মানে হলো তখনকার মানুষ সত্য গ্রহণ, মিথ্যা, কুফর,শিরক বাদ দিয়ে তাওহীদ,কুরআন, আল্লাহ, রসুল বিশ্বাস করার কোন যুক্তি-প্রমান তাদের কাছে ছিল না ! মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছায় নূরে মুজাসসাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দীর্ঘ ৪০ টি বছর বয়স মুবারকের শুরু কাল তথা শিশু বয়স মুবারক থেকে তাদের সাথে উঠা বসা, লালিত-পালিত হয়ে, ব্যবসা-বাণিজ্য সহ দীর্ঘ ৪০ বছর অতিবাহিত করেলেন। বিগত ৪০ বছর বয়স মুবারকের অনুপম, অপূর্ব আদর্শ মুবারক তাদের অন্তরে বিশেষ ভাবে রেখাপাত করে । আইয়্যামে জাহিলিয়্যাতের পথ হারা মানুষের মনেও আল আমিন বিশ্বাসে জায়গা করে নিলেন
নূরে মুজাসসাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, সুবহানাল্লাহ। এমন ভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করলো যে তাদের মাঝে অনুষ্ঠিত গোত্রীয় কোন্দল এর মিমাংসার ভার এখন আল আমিন খ্যাত অনুপম চরিত্র মুবারক উনার অধিকারী রাহমাতুল্লিল আলামিন উনার হাত মুবারকে, সুবহানাল্লাহ।
তাদের অন্তরে এতো বিশ্বাস! যার ৪০ বছর নিখুঁত পবিত্র বয়স মুবারক হলো বিরাট বড় প্রমাণ! এমন প্রমাণ যখন তিনি বলেন ইহা মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম! তাদের বিশ্বাস হয়, সুবহানাল্লাহ ।তিনি বল্লেন, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, সেটাও বিশ্বাস হয়! গাছ,মাছ,পাথর সূর্যের পূজা নিষিদ্ধ তাও বিশ্বাস হয় । মদ জোয়া, কুফর শিরক বাদ দিতে হবে,তাও বিশ্বাস হয়, সুবহানাল্লাহ! কেন এতো বিশ্বাস? একটাই কথা তিনি যা বলেন সব সত্য বলেন। কারণ খুব কাছে থেকে ৪০ বছর বয়স মুবারক উনাকে দেখলাম তিনি জীবনে কখনো মিথ্যা বলতে পারেন না, বলেননি ,এমনকি উনার চাল-চলন,উঠা-বসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, পরোপকার সর্বক্ষেত্রে উনার তুলনা নেই, হবেও না, সুবহানাল্লাহ। এখন তিনি যা বলেন একেবারে সত্য। এই মহান ৪০ বছর বয়স মুবারক যারা দেখেছেন
বুঝেছেন, উপলব্ধি করেছে, অন্তরের গভীর থেকে বিশ্বাস করেছেন তারাই কিয়ামত অবধি অনুসরণীয় মহান হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদিয়াল্লাহু আনহুম,সুবহানাল্লাহ।

তার পরও কি আবু লাহাব,আবু জাহেল,উতবা, শায়বা,মুগিরা তাদের ঈমান নছীব হয়েছে? হয়নি। কারণ তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৪০ বছর বয়স মুবারক থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছে, নাউজুবিল্লাহ!

সর্ব প্রথম মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারক হলো আপনার আত্মীয় স্বজনের কাছে সম্মানিত দ্বীন ইসলামের দাওয়াত দিন। তিনি একদিন মক্কার ছাওর পাহাড়ে উঠে আহ্বান করলেন--ইয়া সবাহ্ ! সাথে সাথে
মক্কার কুরাইশসহ সকলি সেখানে উপস্থিত হলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের জিজ্ঞাস করলেন আপনারা কি আমাকে বিশ্বাস করেন ? সবাই হাত উড়িয়ে বল্লেন জি বিশ্বাস করি।‌ তিনি তাদের কথার দৃঢ়তা বাড়াতে পূণরায় বল্লেন আমি যদি বলি পাহাড়ের ঐ দিকে আপনাদের শত্রু বাহিনী আছে! আপনারা কি তাও বিশ্বাস করবেন ? তারা সবাই সমস্বরে চিৎকার করে বলে উঠল আমরা সবাই আপনার কথা বিশ্বাস করি ! কারণ আপনি ৪০ বছর বয়স মুবারকে পলকের তরেও মিথ্যা বলেননি, বলতে পারেন না। আপনার চরিত্র মুবারক অনুপম পবিত্র,কাজেই আপনি যা বলবেন সত্য বলবেন কখনো মিথ্যা বলবেন না । তখন নূরে মুজাসসাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন হে লোক সকল আপনারা বলুন, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। সাথে সাথে তাদের দীর্ঘ ৪০ বছরের চোখে দেখা সত্যবাদীতা, তাদের বিশ্বাস কুয়ে গেল! একটু আগে ও যারা জোর গলায় বিশ্বাস করে ছিল মুহুর্তে তাদের বিশ্বাস ধ্বসে গেল, নাউজুবিল্লাহ!
তারা বল্ল এই জন্যই কি এখানে আমাদের ডেকছেন ?
তারা একে একে নূরে মুজাসসাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে বিশ্বাসের পরিবর্তে অবিশ্বাসের তীর ছুড়ে দিল, নাউজুবিল্লাহ ! আবু লাহাব তো গালিগালাজ শুরু করল! নাউজুবিল্লাহ।

কেন কি হলো ? মূলত কাফেররা তাদের দুনিয়াবি স্বার্থে
তারা নূরে মুজাসসাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনতে পারেনি, পারিনি কুরআন শরীফ বিশ্বাস করতে! পারেনি মহান আল্লাহ পাক উনার এককত্ব স্বীকার করতে , নাউজুবিল্লাহ।

ঠিক একই ভাবে জামানার মহান ইমাম ও মুজতাহীদ আওলাদে রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যারা খুব কাছে থেকে দেখেছেন তাদের একজনের একটি ঘটনা শুনাই -- আজ থেকে প্রায় ১৫/১৬ বছর আগের কথা! আমার বন্ধু মুফতি মুহম্মদ বায়জিদ কবির (সে বর্তমানে একটি মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক)
সুমহান ঢাকা রাজারবাগ দরবর শরীফ থেকে কোন এক সফরে ঢাকায় অন্য কোথাও যাচ্ছিলেন, গাড়িতে এক ভদ্রলোকের সাথে কথা হয়, তিনি মুফতি বায়জিদ সাহেবকে বিভিন্ন কৌশল বিনিময় করে জিজ্ঞেস করলেন আপনি ঢাকা কোথায় আসলেন ? তিনি বললেন ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফ এসেছি । ঐ ভদ্রলোক বললেন দেখুন আপনি এমন একজন মহান ব্যক্তির কাছে আসছেন তিনি সত্যিই একজন মহান চরিত্র মুবারক এর অধিকারী এবং একজন ওলীআল্লাহ সুবহানাল্লাহ।
ঐ ভদ্রলোক আরো বল্লেন যে,দেখুন আপনার পীর সাহেব তিনি আমার ক্লাসমেট! তিনি যখন (কলেজে) প্রতিষ্ঠানে
আসতেন যতক্ষণ তিনি আমাদের সাথে থাকতেন
আমরা তাকে নিয়ে চিন্তা করতাম যে তিনি কি মানুষ ? নাকি ফেরেশতা ! সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ সাইয়্যেদুনা মুজাদ্দিদে আ'যম ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার শৈশব-কৈশর এর আদর্শ চরিত্র মুবারক কেমন ছিল
ঐ ভদ্রলোক এমন ভাবে উপস্থাপন করেন যে উনার ছাত্র জীবনের আচার-আচরণ, তাক্বওয়া,পরহেজগারী, নিরিবিলি অবস্থান, ধ্যানে-খেয়াল, জিকির-ফিকির, রিয়াজত-মুজাহাদা সব মিলিয়ে তিনি শৈশব থেকেই ছিলেন এক অনপম চরিত্র মুবারক উনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, সুবহানাল্লাহ। তিনি তো মহান রবের মনোনিত ও প্রেরিত মহান মুজাদ্দিদ, সুবহানাল্লাহ!

এবার আসুন আপনি/ আমি উনাকে কত বছর ধরে কেমন দেখে আসছি ?
এর জবাব আমি কি লিখবো আর কি বলবো! বুঝতে পারছি না!! আমার/ আপনার চোখে দেখা উনার ছানা- ছিফত প্রকাশ করতে মনে পড়ে -
হযরত যায়েদ বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সেই ক্বছিদা শরীফ তিনি নূরে মুজাসসাম হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারশানে কত চমৎকার বলেছেন -( ইয়া রাসুলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমি আমার ক্বাছিদায় আপনার প্রশংসা প্রকাশ করতে পারিনি বরং আপনার সম্মানে ও আযমতে আমার ক্বাছিদা প্রশংসিত হয়ে যায়! সুবহানাল্লাহ!
তার পরও কিঞ্চিত চেষ্টা -

আমি ২২/২৩ বছর ধরে উনাকে খুব কাছ থেকে যতটুকু দেখেছি,ছোহবত মুবারকে বসেছি -তা কিছু লিখার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ--

-চলবে ইনশাআল্লাহ 

হানাফী -

২/৩/১৪৪৭ হিজরী