ফার্সি বাসায় একটি শব্দ মালা আছে 'মারে আস্তিন'
শাব্দিক অর্থে 'জামার হাতার সাপ'! হয়তো বা প্রবচনটি শুনতেই 'গা'শিউরে উঠেছে! যি ঠিকই গা শিউরে উঠার কথা! সাপ- বিচ্ছুর কথা শুনতে 'গা' যথটা না শিহরিত হয় তার চেয়েও ভয়ঙ্কর ভাবে'জামার হাতার সাপ'শুনলে শরীরের পশমসহ রক্ত-গোস্ত শিহরিত হবে !! বাহিরে গর্তে সাপ থাকা আর জামার ভিতরে সাপ থাকার ভাবার্থ বুঝতেই পারছেন!? 'মারে আস্তিন' শব্দ মালার শাব্দিক অর্থে 'জামার হাতার সাপ' বুঝালেও প্রবচনটি ব্যবহৃত হয় গাদ্দার ও বিশ্বাসঘাতকদের বোঝাতে ।
মূলত 'বন্ধু রুপি শত্রু'ও 'ঘরের শত্রু' বলে যা বোঝায় মূলত তাই বুঝানো হয়ে থাকে । আসলে গাদ্দারদের অপরাধ বোঝাতে আস্তিনের সাপ শব্দটি যথেষ্ট নয় । কেননা জামার হাতায় থাকা সাপের ছোবলে কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই মারা যেতে পারে প্রক্ষান্তরে কোন গাদ্দারের বিষাক্ত ছোবলে শুধু একজন ব্যক্তি নয়,একটি
পরিবার, একটি সমাজ, এমনকি ধ্বংস হতে পারে পুরো একটি রাষ্ট্র একটি সমৃদ্ধ জাতি ,একটি আদর্শ ধর্মীয় কাঠামো! নাউজুবিল্লাহ ! এই বিশ্বাস ঘাতক গাদ্দারদের রং-রূপের যে ধরণ,তাদের আসল রূপ ধরাই মহা চ্যালেঞ্জ । তারা রঙে-রূপে যেমন আশরাফুল মাখলুকাত,তাদের ছোবলের বিষক্রিয়াও তেমনই বিষাক্ত। তারা ছুরতান মানুষ হলেও তাদের অন্তর নেকরে বাঘের চেয়েও ভয়ঙ্কর
হিংস্র। ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতিতে তারা প্রকাশ্য শত্রু ইহুদী-খৃষ্টান তাবত কাফের মুশরিকদের চেয়েও তুলনায় অধিকতর ভয়ানক । কারণ মানুষ প্রকাশ্য শত্রু থেকে বাঁচার ব্যবস্থা জানতে পারলেও লেভেলদারী আস্তিনের ভিতরের গাদ্দার বিশ্বাস ঘাতকদের থেকে বাঁচার কোন উপায় খুঁজে পাওয়া বড় দুষ্কর। ইতিহাস পড়লে অনুমান করা যায়,যুগে যুগে ঘরের শত্রুরা সম্মানিত দ্বীন ইসলামের যে পরিমাণ ক্ষতি করেছে প্রকাশ্য শত্রুরা তার১০ ভাগের এক ভাগও করতে পারিনি ।সম্মানিত দ্বীন ইসলামের শুরু থেকেই ঘরের শুত্রুরা আসল রূপ গোপন রেখে ইসলামের যে পরিমাণ ক্ষতি সাধন করছে তা ঐতিহাসিক ভাবে ভূলার মতো না। এমনকি আখিরী রাসূল,রাউফুর রহিম,রাহমাতুল্লিল আলামিন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে পরিমাণ কষ্ট দিয়েছে,এই গাদ্দার গোষ্ঠী সেই ইতিহাস পড়তেও আত্মা কেঁপে উঠে। এই বিশ্বাস ঘাতক গাদ্দারের গোষ্ঠীর একটি চিরাচরিত নিয়ম হলো-সাদামাঠা দুধের মতো ছূরত ধারণ করে সুযোগ সন্ধানে ইসলাম ও মুমিনদের স্পর্শকাতর বিষয়ে তারা আঘাত হানবে, নাউজুবিল্লাহ! যেমন ইফক্বের ঘটনা তার ঐতিহাসিক প্রমাণ। নাউজুবিল্লাহ!নাউজুবিল্লাহ !!
ঐতিহাসিক প্রমাণিত -মুসলিম জাতি সত্তার উপর বড় বড় যে সমস্ত বিপর্যয় নেমে এসেছিল এর মূলেই ছিল এই বিশ্বাস ঘাতক গাদ্দারদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর । এদের বিষাক্ত ছোবল এতোই প্রতিক্রিয়াশীল যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-গোষ্ঠীর সীমা অতিক্রম করে পুরা জাতীকে এর উপশম পেতে কয়েক শতাব্দি সময় লেগে যায়। নাউজুবিল্লাহ!
তাদের ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বিষক্রিয়ার তিব্রতা এতো বেশি
যা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পুত পবিত্রতম মহান হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পর্যন্ত ভীষণ ভাবে আঘাত হানে, নাউজুবিল্লাহ! ইফক্বের ঘটনার পর হযরত উম্মুল মুমিনিন সিদ্দিক্বা আলাইহাস সালাম তিনি দীর্ঘ দিন পর্যন্ত কিছু না খেয়ে কাঁদতে কাঁদতে উনার জিসিম মুবারক শুকিয়ে যায়, নাউজুবিল্লাহ!
পবিত্র কুরআন শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে -জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্হরে তাদের স্হায়ী ঠিকানা, নাউজুবিল্লাহ।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে বর্তমান সময়ের সকল বিশ্বাস ঘাতক গাদ্দার মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র চক্রান্ত ও বিষাক্ত ছোবল থেকে হিফাজত করুন, এবং ঈমান -ইসলামের পথে চূড়ান্ত ভাবে কবুল করুন ইস্তেকামত থাকার তৌফিক দান করুন আমীন ।
হানাফী২৫/৩/১৪৪৭ হিজরী
রাত ২:৩৯